পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রূপগঞ্জ উপজেলার নাওড়া গ্রামে রফিক বাহিনীর হামলায় গুলিবিদ্ধ তাজেল ইসলাম মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন ।
পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রূপগঞ্জ উপজেলার নাওড়া গ্রামে রফিক বাহিনীর হামলায় গুলিবিদ্ধ তাজেল ইসলাম মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন । সোমবার( ২৯ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ভয়ংকর রফিক বাহিনীর তাণ্ডবে চোখে গুলিবিদ্ধ হন তিনি ।
এ ঘটনায় আহত ১৩ জনের ৫ জন এখনো বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন । এদিকে, হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগীরা রূপগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলেও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা নেওয়া হয়নি ।
ঘটনার সত্যতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক চন্দ্র সাহা । অভিযোগ তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি ।
জানা যায়, সোমবার দুপুরে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে আন্ডা রফিক ও তার ভাই মিজানুর রহমান ওরফে কুত্তা মিজানের উপস্থিতিতে ৫০ থেকে ৬০ জন সন্ত্রাসী নাওড়া গ্রামের নিরীহ বাসিন্দাদের ওপর বর্বর হামলা চালায় । এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ৮ জনসহ আহত হয় ১৩ জন । এর মধ্যে পাঁচজন বর্তমানে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার । বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকাছাড়া হয়েছেন বলে জানা গেছে । সূত্র জানায়, তাজেল ইসলাম নাওড়া গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে । সোমবার দুপুরে সন্ত্রাসী তার বাড়িতে হামলা শুরু করে । আশপাশের লোকজন তাকে রক্ষা করতে আসলে সন্ত্রাসীরা ব্যাপকভাবে গুলি চালায় । গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তাজেল । এ সময় রফিক বাহিনীর সদস্য আব্দুর রহমান তাকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আঘাত করে ।
এতে তার মুখমণ্ডল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, নাকের ছিদ্র কেটে যায় । এরপর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের স্থানান্তর করা হয় । পরে ঢাকা মেডিকেল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয় । প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাজেলের শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন তার বাবা মোক্তার হোসেন । চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মোক্তার হোসেন বলেন, তার অবস্থা খুবই গুরুতর ।
হামলার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত মুহাম্মদ জাগু প্রধান, আলাদি প্রধান, মোহাম্মদ আলআমিন, জয়নাল প্রধানও গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে । হামলার শিকার লিপি প্রধান, মাসুদা প্রধান, জেসমিন প্রধানসহ বেশ কয়েকজন নারী চিকিৎসা নিয়েছেন । কিন্তু নতুন করে হামলার আশঙ্কায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে ।
সরেজমিন গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নাওড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুরো গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে । গ্রামটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে । গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে । গ্রামের বাসিন্দা নুরজাহান বেগম জানান, রফিক বাহিনীর ফের সন্ত্রাসী হামলার ভয়ে অধিকাংশ বাড়ির পুরুষরা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন । স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব ভূঁইয়া জানান, গত সোমবার রফিক ও মিজান বাহিনীর সন্ত্রাসীরা নাওড়া গ্রামের মানুষের বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট করার পর ৮ জনকে গুলিবিদ্ধ করে শিশুসহ ১৩ জনকে আহত করে । প্রবীণ এই নেতা বলেন, সারাজীবন দল করে আমাদের দল ক্ষমতায় থাকাকালীন দলের হাইব্রিড ভূমিদস্যু রফিক বাহিনী আমাদের গুলি করছে, বাড়িঘর ছাড়া করছে । স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার হচ্ছে না ।
এদিকে, হামলার ঘটনায় মোস্তাফিজুর রহমান নীরব বাদি হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন । এতে হামলাকারীদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই মিজানসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩০ থেকে ৪০ জনকে অভিযুক্ত করা হয় ।
অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান নীরব বলেন, আসামিরা অত্যন্ত উশৃঙ্খল, দাঙ্গাবাজ, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক । তারা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক মনোভাব পোষণ করে আসছে । আমাদের বাড়িঘর ও জমিজমা দখল করতে রফিকুল ইসলামের নির্দেশে মিজানুর রহমান ও কালা জসুর নেতৃত্বে ৩০- ৪০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, শটগান, দা, রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, সুইচ গিয়ার, চাকু, লোহার রড, এস এস পাইপ, হাতুড়ি নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায় ।
এ ঘটনায় ১৩ জন আহত হয় । এর মধ্যে ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয় । বর্তমানে ৫ জন গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছে । মামলার বাদী মোস্তাফিজুর রহমান নিরব জানান, সোমবার দুপুরে ও বিকেলে দুই দফায় হামলায় আমাদের পরিবার ও আশপাশের ৬ থেকে ৭ বাড়ির মোট ১৩ জন গুরুতর আহত হয় । সন্ত্রাসীরা এখনো হামলার পরিকল্পনা করছে । আমরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি । এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অস্ত্র উদ্ধার অথবা একজন হামলাকারীকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ ।

No comments: